রবিবার, ১৬ মে ২০২১, ১২:৪৪ অপরাহ্ন

রোজাদারদের মধ্যে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ একেবারেই কম

ডেস্ক রিপোর্টঃ
    প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২১
রোজাদারদের মধ্যে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ একেবারেই কম

রোজাদারদের মধ্যে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ একেবারেই কম। এমন তথ্য দিয়েছে ইউরোপের গবেষণা প্রতিষ্ঠান এমসিবি। আর এ তথ্যের উপর বিশেষ বুলেটিন প্রকাশ করেছে আলজাজিরা ও বিবিসি। এমন তথ্য যখন প্রকাশ পায় তখন সাধারণ মুসলমানদের মধ্যে পবিত্র সিয়াম পালনের প্রতি আগ্রহ বেড়ে যায় শতভাগ। যেমনটা ঘটেছে ইতালিসহ সমগ্র ইউরোপে।

লকডাউনের বন্দী জীবনে মানুষের যেন একটু বেশিই আগ্রহ ধর্ম-কর্ম, নামাজ ও রোজার প্রতি। এতে করে রমজানের দ্বিতীয় জুম্মার দেশটির মসজিদগুলো ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। প্রতিটি মসজিদে অনুষ্ঠিত হয় একাধিক জুম্মার নামাজের জামাত। মসজিদের ভিতর পেরিয়ে বারান্দা ও পাশের খেলা মাঠেও মুসল্লিদের সালাত আদায় করতে দেখা যায়। জুম্মার নামাজে সামিল হতে পেরে খুশি প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

শুক্রবার দুপুরের পর মসজিদগুলোতে ধর্মীয় বয়ানের মাধ্যমে শুরু হয় পবিত্র জুম্মার নামাজের প্রস্তুতি। ইমাম সাহেবদের খুতবা পাঠের পর শুরু হয় পবিত্র জুম্মার নামাজ। নামাজ শেষে মুসল্লিরা মুসলিম উম্মাহ ও সমগ্র পৃথিবীর শান্তির জন্য হাত তুলে মোনাজাত করেন। অনেকেই বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির জন্য মোনাজাতে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। সকলের মুখে উচ্চারিত হয় করোনামুক্ত আগামী বিশ্বের স্বপ্ন।

খ্রিস্ট ধর্মের আদিভূমি ইতালি সরকার এ বছর পবিত্র রমজান শুরু হওয়ার পূর্ব মুহূর্তে খুলে দেয় মসজিদগুলো। আর এতে করে পবিত্র রমজানের তারাবীহ নামাজও মসজিদে পালন করতে সক্ষম হচ্ছে মুসলিমরা। সরকারের এমন আচরণে খুশি দেশটির লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান।

 

এদিকে রমজান উপলক্ষে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) একটি বিবৃতি দিয়েছে। সেখানে রোজাদারদের জন্য কিছু নির্দেশনা দেয়া হয়। বিবৃতির একটি অংশে জানানো হয়েছে, রোজা রাখার মাধ্যমে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায় এমন কোনো প্রমাণ ডব্লিউএইচওয়ের কাছে নেই।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রিয় বন্ধু এবং সহকর্মীরা! এ বছর বিশ্বব্যাপী প্রায় দেড় বিলিয়ন মুসলমান পবিত্র রমজান মাসকে স্বাগত জানাবে। এক বছর আগে, মহামারির প্রাথমিক পর্যায়ে আমরা নতুন এক রমজানের অভিজ্ঞতা লাভ করেছি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে আমরা নিজেদের এবং প্রিয়জনদের সুরক্ষার উপায় খুঁজে পেয়েছি।’

‘দুঃখের বিষয় যে, চলতি বছর করোনা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। আমরা করোনায় অনেক মানুষকে হারিয়েছি। আরও অনেকে সংক্রামিত হচ্ছে। করোনা মহামারি এখন একটি বাস্তব হুমকি। তাই, এই রমজানে আমাদের আরও সচেতন থাকা জরুরি।’

‘আসুন আমরা সকলে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি করি, যাতে আমরা আমাদের সামনের আরও অনেক আনন্দময় অনুষ্ঠান এবং পরের বছর রমজান এক সঙ্গে উদযাপন করতে পারি। এই দায়িত্ব সরকার ও ব্যক্তি সকলের উপর সমানভাবে আসে।’

বিবৃতিতে ডব্লিউএইচও আরও বলে, ‘রোজা রাখার ফলে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায় এমন কোনো প্রমাণ নেই। তবে যারা দীর্ঘ সময় ধরে করোনায় ভুগছেন তারাও রোজা রাখতে পারবেন। রোজা রাখা অবস্থায় তাদের উপসর্গ যদি গুরুতর আকার ধারণ করে, তাহলে তারা চিকিত্সকের সঙ্গে পরামর্শ করে ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী রোজা ভাঙতে পারেন।’

স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত নির্দেশিকায় বলা হয়, ‘ডব্লিউএইচও সব সময় খোলামেলা পরিবেশকে উত্সাহ করে। যেখানে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল করতে পারে। একই সঙ্গে জনাকীর্ণ এবং বায়ুচলাচল করতে পারে না এমন স্থান থেকে সর্তক থাকা ভালো। কারণ এখানে ভাইরাসে সংক্রামিত ব্যক্তিরা সহজেই অন্যদের কাছে ভাইরাসটি ছড়িয়ে দিতে পারে।’

আরো দেখুনঃ

প্রবাস টাইম সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
রিলেটেড নিউজ
© 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি
Technical Support By NooR IT