প্রবাস টাইম
ঢাকাশুক্রবার , ৪ জুন ২০২১
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ওমান
  5. করোনা আপডেট
  6. কৃষি
  7. খেলাধুলা
  8. খোলা কলম
  9. চাকরি
  10. জাতীয়
  11. জানা অজানা
  12. জীবনের গল্প
  13. ধর্ম
  14. প্রতিনিধি
  15. প্রবাস
আজকের সর্বশেষ সবখবর

টিকটক-লাইকিতে নোংরামি, গোয়েন্দা নজরদারিতে অনেক ওমান প্রবাসী

প্রতিবেদক
Desc
জুন ৪, ২০২১ ৩:৩০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

টিকটক-লাইকিতে নোংরামি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ওমান প্রবাসীরা। দ্রুত ভাইরাল হওয়ার নেশায় অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি আর কুরুচিপূর্ণ কথাবার্তা যুক্ত করে ভিডিও বানাচ্ছেন কয়েকজন ওমান প্রবাসী। তাদের ভিডিওর কারণে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে মনে করছেন প্রবাসীরা।

এছাড়াও ‘টিকটক-লাইকির ভিডিও তৈরির মাধ্যমে আয়ের সুযোগ’— এমন প্রলোভন দেখিয়ে তরুণ-তরুণীদের ফেসবুক গ্রুপে যুক্ত করছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। পরে বিভিন্ন দেশে পার্লার, সুপার শপ, কিংবা বড় শপিং মলে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে পাচার করা হচ্ছে।

সম্প্রতি ভারতে বাংলাদেশি তরুণীকে যৌন নির্যাতনের যে ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, তার সূত্র ধরে নারীপাচারের একটি বড় চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রটির নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ, ভারত ও মধ্যপ্রাচ্যের দুবাইসহ কয়েকটি দেশ পর্যন্ত বিস্তৃত।

 

তাদের টার্গেট স্কুল-কলেজপড়ুয়া মেয়েসহ বিবাহিত গৃহিনী ও বখে যাওয়া ছেলে-মেয়ে। টিকটকের মডেল বানানোর টোপ দিয়ে তরুণীদের ভারতে পাচারের ফাঁদে ফেলেছে চক্রটি। বিভিন্ন সময় ভারতে নিয়ে যৌনকর্মী হিসেবে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বেশ কয়েকজনকে। ভারতে পাচার হওয়া এক কিশোরী তিন মাসের নির্মম নির্যাতন ও বন্দিদশা থেকে পালিয়ে দেশে ফিরে রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করেছেন।

মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ১২ আসামির মধ্যে তিনজনকে সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ১২ আসামির মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশে অবস্থান করছে বলে জানিয়েছেন তেজগাঁও জোনের ডিসি মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ। ইতিমধ্যেই বেশকিছু টিকটক ব্যবহারকারী ওমান প্রবাসীকে গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে নাম না প্রকাশের শর্তে প্রবাস টাইমকে জানিয়েছেন ডিএমপির এন্ট্রি টেরোরিজম ইউনিটের এক কর্মকর্তা।

 

জানা যায়, টিকটক গ্রুপ খুলে সেখানে পোস্ট করা হতো অশ্লীল ভিডিও। সেই ভিডিওতে যেসব নারী লাইক-কমেন্ট বা শেয়ার করতেন প্রথমে তাদের টার্গেট করা হতো। যারা টার্গেট করতেন তাদের টিকটক আইডিতে লাখ লাখ ফলোয়ার থাকত। পরে দেখানো হতো ভিডিও তৈরি করে টিকটকে জনপ্রিয়তা বাড়ানোর প্রলোভন।

এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. শহিদুল্লাহ বলেন, তাদের বিরুদ্ধে কাজ করছে পুলিশের সাইবার ইউনিট। কুরুচিপূর্ণ ভিডিও বানিয়ে অশ্লীলতা ছড়ানোর অভিযোগে কয়েকশ টিকটকারকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ।

 

সম্প্রতি ভারতে এক তরুণীকে যৌন নির্যাতনের ভিডিও ভাইরালের ঘটনা তদন্তে নেমে এসব টিকটকারকে চিহ্নিত করা হয়। ‘টিকটকের কার্যক্রম শুরুর পর থেকে এই পাচারকেন্দ্রিক অপচেষ্টা শুরু হয়। উঠতি বয়সী কিশোরী-তরুণীদের মডেল বা স্টার বানানোর প্রলোভন দেখিয়ে ফাঁদে ফেলে পাচার করছে একটি চক্র। এজন্য আমরা টিকটককে নেগেটিভলি দেখছি। টিকটক-কেন্দ্রিক অপচেষ্টা বন্ধে আমরা জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসব।’

র‌্যাবের ইন্টেলিজেন্স (গোয়েন্দা) উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুহাম্মদ খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘পাচারকারীদের ধরতে ঢাকাসহ সারাদেশে র‌্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। র‌্যাব একটি চক্রকে ধরেছে যারা ইতোমধ্যে ভারতে প্রায় ৫০০ নারী পাচার করেছে। ওই চক্রের অন্যান্য সদস্যদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

 

রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের সংবাদমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, এ চক্রটি বিভিন্ন প্রতারণামূলক ফাঁদে ফেলে এবং প্রলোভন দেখিয়ে নারী ও তরুণীদের পার্শ্ববর্তী দেশে পাচার করত।

দেশি-বিদেশিসহ প্রায় ৫০ জন সংঘবদ্ধ চক্রের সঙ্গে তারা জড়িত রয়েছে। এই চক্রের মূলহোতা রাফি এবং গ্রেপ্তার অন্য সদস্যরা তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী। এছাড়া ভারতে গ্রেপ্তারকৃত টিকটক হৃদয় তার অন্যতম সরবরাহকারী বা এজেন্ট। এছাড়া তার আরও এজেন্ট বা সরবরাহকারী রয়েছে।

 

টিকটক হৃদয় অনলাইনে টিকটক ও বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়া গ্রুপের তরুণীদের টিকটক মডেল বানানো ও অন্যান্য প্রলোভন দেখিয়ে উচ্ছৃঙ্খল জীবনে আকৃষ্ট ও অভ্যস্ত করাত। পরবর্তীতে তাদেরকে পার্শ্ববর্তী দেশ বা উন্নত দেশে বিভিন্ন মার্কেট, সুপারশপ, বিউটি পার্লারসহ বিভিন্ন ধরনের ভালো বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বস রাফির মাধ্যমে ভারতে পাচার করত।

মূলত যৌনবৃত্তিতে নিয়োজিত করার উদ্দেশ্যেই পার্শ্ববর্তী দেশের দক্ষিণ অঞ্চলে পাচার করা হতো তাদের। পাচারের পর তাদেরকে বিভিন্ন নেশা জাতীয়/মাদকদ্রব্য সেবন করিয়ে জোরপূর্বক অশালীন ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করত যাতে তারা এ ধরনের কাজে বাধ্য হয় জানায় র‌্যাব।

 

 

আরো দেখুনঃ

প্রবাস টাইম সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।